ছড়া


বাবুই কথা


জ য় দা স

তাল গাছেতে বাবুই পাখি
নাচছে ঝুলে ঝুলে।
হাওয়ার সাথে কথা বলে
ছোট্ট ডানা তুলে।

বৃষ্টি-ঝড়ে দুলতে থাকে 
ছোট্ট পাখির বাসা। 
তবুও উড়াল দিয়ে ওদের
নীল আকাশে ভাসা ।

ছোট্ট বাসা, ছোট্ট আশা 
কিচির-মিচির গান। 
যুদ্ধ করে জীবন গড়ে
প্রকৃতিরই প্রাণ।

কিচির-মিচির কোথায় এখন 
সুরে মধুর ঢেউ।
কালের স্রোতে হারিয়ে গেল
জানলো নাতো কেউ!




এক বিকেল 


সু স্মি তা ম ন্ড ল পা ই ক (মা লা)


এক বিকেলে পড়ন্ত রোদ
যতই তখন হাঁটি---
উঁচু নিচু অসমতল জমি
শক্ত পোক্ত মাটি!
এক বিকেলে পাখিরই ঝাঁক
কিচির-মিচির ডাকে,
হঠাৎ করে শব্দে ঝর ঝর
শুকনো পাতা নাকে!
তরুর ভিড়ে এঁকে বেঁকে
কে যে বেয়ে আসে!
বটবৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে
বসতে বলে পাশে...
পেছন থেকে কে যে এসে
নাড়িয়ে দিলো কেশ!
ঘুরে দেখি খেয়ালি বাতাস
ছোটায় যে তার রেশ।
এক বিকেলে কাঠবেড়ালি
গাছে গাছে ঘোরে,
এক বিকেলে শ্যামল শস্য
যায় ফিরে যায় ঘরে।
এক বিকেলে শুরুর বেলা
বলতে ইতি টানে,
অন্ধকার যে ঢুকলো কখন
সমাপ্তি কি তার মানে?





অভিশপ্ত 


প্র ণ ব কু মা র ব সু 


একটা বুড়ো— একটু মোটা 
খাবার খেলেই দাঁতটা খোঁটা—
সঙ্গে বুড়ি-থুড়থুড়ি 
হাঁ করে বেশ গিলছে মুড়ি—

দুজনে মিলে চেপেছে ট্রেনে 
বাক্স-প্যাঁটরা বেঁধেছে চেনে—
খাবার ভর্তি এনেছে দলে
এসব কি আর ভুললে চলে!

ট্রেন ছুটেছে ভীষণ জোরে 
ডাকছে যে নাক ঘুমের ঘোরে—
মাঝরাতে ভাঙ্গে বুড়ির ঘুম 
টয়েলেটে এবার যাবার কী ধুম—

"শুনছো ওগো, উঠবে নাকি 
টয়েলেটে যাওয়া রয়েছে বাকি"—
শুনেই বুড়োর ভেঙ্গেছে ঘুম 
বুড়িকে যদি করেই গুম—

হাত ধরাধরি করে বুড়োবুড়ি 
মালপত্তর সব হবেনাতো চুরি—
"সাবধানে যাও— পড়বেনা ঘুরে 
দাঁড়িয়েছি আমি একটুকু দূরে—

এমন করেই চলছে জীবন 
বুড়োবুড়ি আজ রয়েছে দুজন—
মৃত্যুর ভয়— মনে মনে হয়
কে জানে কার— হবে যে কোথায়।






চিত্রপট


তু হি ন কু মা র চ ন্দ 


কার্তিকের ধান খেত ফিকে হয়ে আছে
শূন্য মাঠে উড়ে আসে রাতচরা পাখি, 
ধঞ্চের ফুলে মাখা কুয়াশা সকাল
তোর্ষার স্রোতগুলো বুকে ধরে রাখি।

ডুয়ার্স ঘুমোয় এখন শীতের বাতাস
ভুটানযুবতী শুকোয় এলোমেলো চুল,
ভেসে যায় মরাকাঠ তোর্ষার স্রোতে 
কুয়াশায় ঝেড়ে ফেলি জীবনের  ভুল।

পামগাছ রোদ ছোঁয় অলস সকাল
রাজবাড়ি সটান একা দীঘিটার পাড়ে,
মদনমোহন বাড়ির ভিখিরির দল
হাত পাতে শীত নিয়ে ডাকে বারেবারে। 

মাসানঠাকুর ছুঁয়ে মধুপুর ধামে
এখানে সোনালী বক ডাইনে ও বামে,
সরু পথ সুপুরির বিশাল বাগান
তামাকের পাতা দোলে দিনহাটা গ্রামে।

অঘ্রান ঢেকে রাখে হরিতকি বন
তোর্ষার বাঁধে রাখা মরা কাঠগুড়ি,
সেই কবে কেবা কারা তুলেছিলো পাড়ে
শীতে কাঁপে থরথরে জলপাইগুড়ি।





নীলাম্বরম্ কণকাম্বরম্


সা য় ন্ত ন ধ র


শীত শেষে যেই বসন্ত এলো
সোনার বরণ ফ্যাকাশে হলো
ফুল ফোটানো বন্ধ করে
রাজা গাছের যায় পাতা ঝরে
পরিচর্যার সুযোগ নেই তো আর
দিন যে ছোট হতেছে আবার।
(ও) কণক রাজা তোমায় 
রাম রাম রাম
এবার যে রাজা
নীলাম্বরম্।

নীল রঙটি ভীষণ প্রিয় ছিলো
যেই না প্রথম বৃষ্টিতে ভিজলো
রঙ যে তার ধুয়ে গেলো এরপর
ফুলগুলি আর কেউ না ফোটে
মৌমাছিরা আর না জোটে
কেউ জানে না কি হবে দোলের পর।
ও নীল রাজা আরে 
রাম রাম রাম
এখন রাজা কণকাম্বরম্।






মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পঞ্চম বর্ষ || প্রথম ওয়েব সংস্করণ || শারদ সংখ্যা || ১১ কার্তিক ১৪৩২ || ২৯ অক্টোবর ২০২৫

চতুর্থ বর্ষ || চতুর্থ ওয়েব সংস্করণ || বাদল সংখ্যা || ১২ শ্রাবণ ১৪৩২ || ২৯ জুলাই ২০২৫

কবিতা