পোস্টগুলি

কথিকা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কথিকা

আমিই বৃক্ষ কিম্বা বৃক্ষই আমি তা প স  কু মা র  দে  বৃক্ষ রোপণে মহৎ ঘ্রাণ ছড়ানো বাতাস বারবার ভেসে ওঠে মানুষের রঙচটা মনেও। কখনো ঝাঁপতাল সবুজের পয়গাম বহন করে কখনো  যাপিত জীবনের স্বপ্নসুরক্ষায় অলিক গল্পের মত বৃক্ষ রূপে নিজেই দাঁড়িয়ে থাকে নিজেরই অলক্ষ্যে। জীবনের গান গাইতে গাইতে লতিয়ে ওঠে বৃক্ষের অস্তি নিরোধ শরীর। নিজেই ফিরে ফিরে দেখে বৃক্ষের ভেতর নিজেকে আর নিজের ভেতর বৃক্ষকে। কী অদ্ভুত এক ঘোরের ভেতর মানুষ আর বৃক্ষ আয়না পাঠের একই ক্লাসের ছাত্র। দুজনের মৃদুমন্দ রাগ কাহারবা তালের বৈরী ছন্দের মত দোলে, যেভাবে দোলে একজন নারী। তবে কি মানুষ আর বৃক্ষ উভয়ই নারীর মত? শরীরের শব্দগুলো বয়ে চলার দিকে রঙিন নদী, ঝর্ণা মনের খাতায় চৌহদ্দি এঁকে দেয়। অবশেষে  আকাশের দিকে তাকালে  ফুরিয়ে যায়। মনে হয় ফাঁকি দেয় মেঘের কাফেলা, মিহি ধোঁয়ার বৃত্তবন্দি নীল, হয়তো কাতরাচ্ছে পাখিদের মত উড়ন্ত শূন্য, প্রেম জ্বালা জ্বলে ওঠে রঙচোখে। পুরাতন তারকারাজি বিষণ্ণ মহাকাশের আকাশডোবা আয়ু নিয়ে  ডুবে যাচ্ছে কুয়াশার মত ঘুমের নিঃষ্পাপ সিঁড়ি বেয়ে আনুষ্ঠানিক শ্মশানঘাটে ভিনদেশি ছন্দে। সামনেই ঈশ্বর প্রকৃতি বৃক্ষ রাজি দাঁড়িয়ে! ওরা বৃক্ষ নাকি মানুষ...

কথিকা/মুক্তগদ্য

নির্যাস শ র্মি ষ্ঠা অবশেষে উজানিয়া বসন্ত এলো বুকের ভেতর। আমি হেমন্তের রানার। ভালোবাসার চিঠি বিলোব বলে পাতাদের ঝরিয়ে ফেলার মরশুম আমি। মেহবুবা নই এক্কেবারেই। সুতরাং, দূরত্ব তার আর তোমারদের অথবা তার আর আমার এইই নিয়তি। এক মস্ত রুক্ষ ডাল নিয়ে এগিয়ে যাই উপত্যকায়। হলুদ মাটি ছুঁয়ে হলুদ শব্দরা জমা হতে থাকে আমারই কানের কুহরে। দিবারাত্র গুজগুজ গোঙানি! আমি রানার বলেই! আর তোমরা যাঁরা ভালোবাসবে বলে দূরত্ব লিখে রেখেছিলে পাকদণ্ডীতে, তাদের কোনও দায় নেই বুঝি! প্রতিধ্বনির মতো ঝুনঝুন করে ওঠে ঝুমুর। মনে হয় ছুঁড়ে ফেলে দিই হাতের লণ্ঠন। জ্বলে উঠুক মর্মর বাদামি পত্রগুচ্ছ। অন্তত কখনও তো দামাল হোক আগুন! পুড়ে যাক এই নগরী, এই বিষণ্ণতা, তোমাদের প্রেমের রাত, চুম্বন আর যাবতীয় অভিসার। সব ছাই হোক, ছাই। বড্ড আঁধার চারপাশ। ঘোর লেগে যায়। এ অরণ্যপথে চুপ করে বসে থাকি। চাঁদের ছায়ারও কত রূপ! রুখা সুখা ডালে জ্যোৎস্না ঢেলে দিয়ে মাটিতে রেখে যায় নিজের ক্ষণজন্মা নিশানা। আমার পিঠে কুঁজের মতো বোঝাই করা চিঠির ভেতরে জল জমা হয়। ঠিক ওখান থেকে শুরু হয় নদী। মুছে যায় দাবানল। সভ্য তুমি আর সভ্য আমি। কেউ যেন খুব কাছে এসে দাঁড়ায়। 'একটা সই ...

কথিকা

ছুটির বেলা    ভা র্গ বী  দিবসের শেষ সূর্য্য শেষ রাঙা আলো ছড়িয়ে দিয়ে বিদায় জানাচ্ছে একটা উজ্জ্বল দিনকে। যেতে হবে তাকে। দিনের যে ছুটি ঘোষণা হয়েছে। যাওয়ার কথায় বিদায়ের সুর লেগে থাকে। আলো ক্রমে কমে আসে। মন ভারী হয়। তাই দিনের অবশ্য কর্তব্য হয় ছুটি শব্দটিকে আঁকড়ে ধরা। ছুটির মধ্যে একটা আরাম থাকে, মুক্তি থাকে। যাওয়ার কথা ভুলে একটা ছুটি মিলবে বলে চরম প্রস্তুতি নিচ্ছে দিনের শেষ রাঙা আলো। ছুটিটা তাকে বেশ কাজে লাগাতে হবে কিনা! কিন্তু কি ভাবে লাগাবে কাজে? বিস্তর ভাবার পর ঠিক করে নিল নিরুদ্দেশ যাত্রায় যাবে দিনের অবশেষ। কোনো ঠিকানা থাকবে না শুধু হেঁটে চলে যাবে সবটুকু ফেলে রেখে। সাথে দিনের নিজস্ব আমিটুকু ছাড়া আর কাউকে নেবে না। পিছনে ফেলে আসা আমিটুকুর প্রতি কোন বাঁধন রাখবে না। সূর্যের আলোয় পুড়তে পুড়তে পুরো দিন ক্রমশঃ সন্ধ্যের পর চাঁদের আলোয় ভিজতে ভিজতে  হয়তো বা হঠাৎ বৃষ্টির আড়ালটুকু নিয়ে ঝাপসা চোখে কেবল সামনে দেখবে- আদিগন্ত বিস্তৃত এক বিশাল শূণ্য তেপান্তরের মাঠ। সন্ধ্যায় আলো কমে আসবে আরও। দিনের রং  ফ্যাকাসে হবে ধীরে। দূরটা আরও একটু আবছা হবে। দৃষ্টিও কোনো অজানা কারণে ঝাপসা- তবে কি ছুটির মুক্তিটুকুর থেকে...

কথিকা

ছবি
শরীর মনে রেখেছে দে ব ব র্ণা আলসেমীতে হেলান দিয়ে নিস্পৃহতার আবেশে ফোনটা ঘাঁটছিলাম। মন-মেজাজের আবহাওয়াও বেশ গুমোট, আজকাল আর বৃষ্টি নামে না, ভ্যাপসা গরমে যেন নিশ্বাস আটকে আটকে আসে। শুনেছিলাম ঘাড়ের কাছে একটা কোন নাগিনী বেশ নিশ্বাস ফেলে, আমারতো পুরো মাথার মধ্যেই সংসার-টংসার পেতে একাকার কান্ড বাঁধিয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতেই অতর্কিতেই ফোন এলো; আমার এক বান্ধবীর। একুশের গোড়ায় ওর সাথে পরিচয় হয়েছিল, মাসখানেকের মধ্যেই একটা আত্মিক টান অনুভব করলাম। এখন আমাদের কথোপকথন মিলমিশ দেখলে লোকে, মেয়েবেলার বন্ধুত্ব বলে ভুল করে ফেলে। ওর একটা সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়েছে, আগে আগে ভীষণ কান্নাকাটি করতো এখন আর কাঁদে না, আক্ষেপ করে। কিসের যে আক্ষেপ ওর বুঝি না। কেনো ভালোবাসলাম, কেনো সবার সাথে একা লড়ে গেলাম, কেনো বারবার অপমানের পরও থেকে গেলাম ---শুধু কেনো কেনো আর কেনো। ও বোঝে না, কেনো'র প্রশ্ন মানেই অতীত, আর যা ঘটে গেলো সেটার কোনোরকম উত্তর মাথা কুটে মরে গেলেও পাবে না, আমরা কেউ পাই না। তবুও অবাধ্য যে জন সে'তো শোনে না। প্রায়শই শুনি, বিশেষত মহিলাদের থেকে --বাচ্চাটা আছে তাই যেতে পারি না, এতো বছরের সংসার সব ভেঙে চলে যাবো কি ...

কথিকা

কিছু নেশা ছিল... বাকিটা কপচানো বুলি উ ত্ত ম কু মা র  দা স বিলাসিতার নামে শব্দের খোঁজে এক বুক জলে নামা হয়নি গামছার খেলায়। উলঙ্গ মন বারবার খেলতে চেয়েছে ভেজা চটির শরীরকে ঘিরে; মৃত শরীরের স্নেহ চর্চিত জীবনচর্চা ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে বারবার নারী মনস্তত্ত্বের ব্যাখ্যা শুনেছি... তবে বিচারকের সিদ্ধান্তে শরীর কাটা ছেনির শিথিলতায়  সবটাই ছিল নপুংসকের শিরোনাম। এমনি ফেলে আসা  সুদূর প্রাচ্যে আমার এক বারান্দায় বিকেল... কিছু আশ্চর্য প্রজাপতি বিধ্বস্ত করলো আমার সাধের একাকিত্বের সৌধকে।  আমি দেখলাম তিনটে নৌকার একই পার থেকে ভিন্নমুখী যাত্রা... এক হাঁটু কাদা তখন নেমে গেছে গাঙ্গেয় উপত্যকা ছুঁয়ে... সৌরপ্রভা এঁকে দিয়েছে স্টেডালের এক নেগা রক্তিম শিমুলের ডালি। প্রজাতির শ্রোণি মনের কলুষতা দূর করতে যদি নৈসর্গিকভাব বৃত্তের বাইরে এসে দাঁড়ায় তবে রোজনামচা প্রচলিত পথে বাঁধা সৃষ্টি করবে। কাদার স্রোত গোড়ালি ডিঙাবে আছাড় খাওয়া ঢেউ গুলি ওজন মাপবে পঁচানব্বই থেকে একশো ছুঁয়ে। সময়ের কাছে ওসব তুচ্ছ বিষয় আচমকাই মস্তিষ্কে যখন চেপে বসে পালক ছেঁড়া লোমজ সুখ... তখন  কিছুটা বিধ্বস্ত মন কিছুটা বিধ্বস্ত জীবন কিছু বিধ্...

কথিকা

ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া আ কা শ নে রু দা বুকে গোলাপ লাগিয়ে কাশ্মীরের শাহী চশমার জল খাওয়া সেই নেহেরু আজ আর নেই! ওঁর চরিত্রে অভিনয় করা 'রোশন শেঠ’ ও আজ আর নেই! শ্যাম বেনেগল থেকে পল্লবী জোশী কেউই আজ আর নেই! শুধু রয়ে গেছে জানার জন্য খুঁজে চলার প্রবৃত্তি। প্রবৃত্তি জীবনের চালিকা শক্তি। কেউ না মানলেও আমি মানি একথাটা। এই প্রবৃত্তি আছে বলেই এখনো খুঁজি! খুঁজি বলতে কী খুঁজি সে বলা মুশকিল। পোড়া মাটির চা থেকে কাঁটা বেগুনের ভর্তা। দীবানার হিরোইন দিব্যা ভারতী থেকে আমার হার্ট থ্রব স্টেফি গ্রাফ। সামফুলনের সেই ধবধবে সাদা ক্ষরিসের মত তন্বী দেহের অরুনাচলী লিজাও আমার খোঁজার লিস্টে রয়েছে! ‘ও সোনা, ও সোনা, তোমার মনটা দিয়ে যাও, তাড়াতাড়ি এসে যাও... তুমনে মারি জো এন্ট্রি ইয়ার... দিল মে বাজি ঘন্টি ইয়ার’ গানের সুরে সুর মিলিয়ে সিটি মারতে মারতে রাস্তায় রাস্তায় রকবাজ হয়ে ঘুরতে ঘুরতেও একসময় খুঁজে বেড়াতাম! আমার এই খামখেয়ালীপনা দেখে কী ভাবে লোকজন? সে যে যা ভাবুক! আমি শুধু খুঁজে চলি! রাতবিরেতে পৌঁছে যেতাম মুন্ডা পাড়ায়! হাঁড়িয়া খেয়ে খুঁজতাম! ছত্তিসগড় এর অবুঝমাড়ের জঙ্গলে খাল্খোর বউ এর হাতের সাল্ফি টেনে খুঁজতাম! হেস্টিংস ...