পোস্টগুলি

প্রবন্ধ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্রবন্ধ

কার্ল মার্কস ও ভারতবর্ষ চ ন্দ ন দা শ গু প্ত  অন্যান্য বহু দেশের মত ভারতবর্ষেও 'মার্কসবাদ' কথাটা মোটামুটি পরিচিত। জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস (১৮১৮ -- ১৮৮৩) ভারতীয় জনগণের ইতিহাসের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন। ভারতবর্ষ সম্পর্কে তাঁর নানা প্রবন্ধে এবং রচনাবলীতে দেখা যাবে ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের বিস্তৃত বিশ্লেষণ। আর এইগুলি ভারতের আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির অনুসরণে আমাদের সঠিক পথের সন্ধান দেবে।         ভারত সম্পর্কে মার্কসের আগ্রহ ও রচনাবলী :--- বৃটেনে নির্বাসিত জার্মান যুবক কার্ল মার্কসের পক্ষে ভারত সম্পর্কে জানবার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হলেও তিনি অনন্য-সাধারণ ভঙ্গীতে সমাজ বিজ্ঞানের ভিত্তিতে ভারতের ঘটনাবলী পর্যালোচনা করেছিলেন। ১৮৫১ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন 'নিউ ইয়র্ক ডেইলি ট্রিবিউন' পত্রিকায় ভারত সম্পর্কে যেসব প্রবন্ধ লেখেন, তার কয়েকটির নাম ও রচনাকাল হল :     ক) ভারতে বৃটিশ শাসন (১৫/০৬/১৮৫৩)      খ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাস (২২/০৬/১৮৫৩)     গ) ভারতে বৃটিশ শাসনের ভবিষ্যৎ (২২/০৭/১৮৫৩)     ঘ) ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ (৩০/০৬/১৮৫৭) ...

প্রবন্ধ

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা প্র ল য় ব সু মানবতাবাদী সাধক লালন ফকির তাঁর অজস্র ভক্তিবাদী সুরসাধনায় মানব জীবনের নানা আঙ্গিক এই গানে ফুটিয়ে তুলেছেন যে দর্শন তা যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ও অ্যালেন গিন্সবার্গের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। ছয়শোর বেশি এই দেহতত্ত্বের গানের রচয়িতা সুফি দার্শনিক  মানুষের উৎস আর তার উদ্দেশ্য সন্ধান করতে গিয়ে মন, আত্মা সবকিছুর ধারক বাহক দেহকেই এই দেহতত্ত্বের গানগুলিতে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছেন।  আরবিতে সুফি শব্দটির অর্থ পশম বা পবিত্রতা। সুফিরা পশমের আচ্ছাদন বা কম্বল ব্যবহার করতেন। সুফি মতবাদ কোরানের গুপ্ত ঐতিহ্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। দেহের মধ্যে খোদা আছেন, তাঁকে জানার সাধনায় গড়ে ওঠে সুফিদের দেহসাধনার সংস্কৃতি।  লালনের গানে একটা কলি আছে “… আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা/ মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা …”। সেই নয় দরজা, মানে দেহ যেখানে উন্মুক্ত হয়েছে সেখানেও অণুজীবের সাবলীল বসবাস। ভাবলে অবাক লাগে আমরা দেহকে ক্রান্তীয় বাদল বনের (রেইন ফরেস্ট) সাথে তুলনা করতে পারি আর তাতে বসবাস করে এক আকাশ ব্যাক্টিরিয়া, ছত্রাক, জীবা...

প্রবন্ধ

সুন্দরবনের মৎস্যজীবী প্রসঙ্গে ত প ন  ম ন্ড ল "জলে কুমির,ডাঙায় বাঘ"- এমন একটি প্রবাদ সুন্দরবনবাসীর কাছে সত্যিই চির পরিচিত। বিশ্ববাসীর কাছে সুন্দরবন হল চিত্তাকর্ষক ও রোমাঞ্চকর স্থান। তবে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন মানুষের কাছে রোমাঞ্চকর অনুভূতি প্রদান করে, তেমন এখানে আছে শিহরণ জাগানো ভয়, আতঙ্ক, বিপদের হাতছানি। তবুও সুন্দরবনের অগণিত কর্মঠ সরল মানুষ সমস্ত ভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলে আপন সংগ্রামে। কঠিন জীবন সংগ্রাম যেন তাদের নিত্য সঙ্গী। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পদে পদে বিপদ আসতে পারে, তা জেনেও নিজেদের জীবিকা নির্বাহের পথ থেকে তারা কখনোই বিচ্যুত হয় না। আসন্ন বিপদকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলে তারা। জীবনযাত্রা যে কতটা কঠিন এবং জীবিকার ক্ষেত্র যে কতটা বিপদসংকুল তা চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। অধিবাসীদের অনেকেই মৎস্যজীবী বা জেলে অনেকে নদীচরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বেআইনিভাবে দখল করে মাছ চাষ করে সংসার খরচ নির্বাহ করে। কেউবা নদী সংলগ্ন নিজের জমিতে লবণাক্ত জল ঢুকিয়ে মাছ চাষ করে এবং তা দিয়েই কোনক্রমে সংসার চালায়। আবার অধিবাসীদের অনেকেই  নদীর প্রচন্ড স্রোতে ছোট নৌকা থেকে জাল ফেলে বাগদা ...

প্রবন্ধ

রবীন্দ্রনাথের সমাজ চেতনা প্র ল য় ব সু কবি, ছোট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক সৃজনশীল লেখক ইত্যাদি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর রচনা যতো আলোচিত হয়েছে তাঁর সমাজচিন্তা ও সমাজ দ্বন্দ্ব ততটা আলোচিত হয় নি। যদিও এই দুই বিষয়ের আলোচনা পরস্পরের পরিপূরক এবং রবীন্দ্রনাথের লোকহিতসাধনের চিন্তা ছিল একেবারেই মৌলিক ও সৃজনশীল। খানিকটা গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজার মত করে ওনারই দ্বারস্থ হতে হল এই প্রসঙ্গে আলোচনার সূচনায়। “মানুষের উপর মানুষের অধিকার আছে। পরস্পরের জন্য পরস্পরকে অনেকটা সহিয়া থাকিতে হয়, অনেকটা আত্মসংযম করিতে হয়” - প্রবন্ধ “স্বদেশী সমাজ”, প্রবন্ধকার দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনায় সমাজের উন্নতির মধ্যেই দেশের কল্যাণ নিহিত আছে, সামাজিক স্বাধীনতার মধ্যেই প্রকৃতার্থে দেশের স্বাধীনতা প্রতীয়মান, সামাজিক সংহতিই পারে জাতির মেরুদণ্ড শক্ত করে তুলতে। প্রশ্ন উঠতেই পারে অধুনাকালে রবীন্দ্রনাথের সমাজচেতনার আলোচনা কতটা প্রাসঙ্গিক! সেই সূত্রে বলতেই হয় ক্রমবর্ধমান নারীনির্যাতন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর নির্লজ্জ আক্রমন স...