পোস্টগুলি

পত্রসাহিত্য

বসন্তকে খোলা চিঠি সু মি তা চৌ ধু রী প্রিয় বসন্ত,  তুই যে আমার বড়ো আপন, মন গহীনে চিরকালীন। আজো তোকে মনের ঘরে করি সাদরে আমন্ত্রণ। যদিও আমার জীবনে তোর পলাশের লালিমা আজ উধাও। কালের চাকা বড়ো তাড়াতাড়ি ঘুরেছে, দেখিয়েছে নির্মম বাস্তবতা। সময় দিয়েছে ধুয়ে ভালোবাসার, আদর-সোহাগের সব রঙ। তবু, যখন আকাশ বাতাস মুখরিত হয় তোর ফাগের অনুরাগে, তখন বেখেয়ালেই আমারও মন মাততে চায় তোর পরশে।   জানি সুখ আর দুঃখ জীবন আঙিনায় করে সহবাস আপন পরম্পরায়। তাই দুঃখকে মেনে নিয়েছি, করিনি কোনো অভিযোগ। তাই তোকে আজও সাদর অভ্যর্থনায়, আমার মনের নেই এতোটুক কার্পণ্য। তুই তোর রঙে রঙে ভরে দিস সকল মন, ভালোবাসার পূর্ণতায় এইটুকুনিই আমার অনুরোধ। রাখিস কিন্তু, তোর সখীর এই অনুরোধটুকু।  আর আসিস বারবার এভাবেই রাঙা গোধূলির সাজে, প্রেমের আবেশ মেখে। আমি আজীবন তোর শিমুল পলাশের সাথে পাড়ি দেবো সুখ স্মৃতির পাড়ায়। এভাবেই করবো তোর সাথে, বসন্ত যাপন। তুই যে আমার প্রাণসখা। তোর সাথ ছাড়বো কেমনে। তাই রইবো চেয়ে তোর পথ পানে, অধীর প্রতীক্ষায়। ভালো থাকিস সখা, কোকিলের কুজনে মেতে, শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার অনুরাগের আবীরে রেঙে। ভালো রাখিস সকলকে, তোর ভালোবাসার ফাগে ...

প্রবন্ধ

রবীন্দ্রনাথের সমাজ চেতনা প্র ল য় ব সু কবি, ছোট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক সৃজনশীল লেখক ইত্যাদি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর রচনা যতো আলোচিত হয়েছে তাঁর সমাজচিন্তা ও সমাজ দ্বন্দ্ব ততটা আলোচিত হয় নি। যদিও এই দুই বিষয়ের আলোচনা পরস্পরের পরিপূরক এবং রবীন্দ্রনাথের লোকহিতসাধনের চিন্তা ছিল একেবারেই মৌলিক ও সৃজনশীল। খানিকটা গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজার মত করে ওনারই দ্বারস্থ হতে হল এই প্রসঙ্গে আলোচনার সূচনায়। “মানুষের উপর মানুষের অধিকার আছে। পরস্পরের জন্য পরস্পরকে অনেকটা সহিয়া থাকিতে হয়, অনেকটা আত্মসংযম করিতে হয়” - প্রবন্ধ “স্বদেশী সমাজ”, প্রবন্ধকার দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনায় সমাজের উন্নতির মধ্যেই দেশের কল্যাণ নিহিত আছে, সামাজিক স্বাধীনতার মধ্যেই প্রকৃতার্থে দেশের স্বাধীনতা প্রতীয়মান, সামাজিক সংহতিই পারে জাতির মেরুদণ্ড শক্ত করে তুলতে। প্রশ্ন উঠতেই পারে অধুনাকালে রবীন্দ্রনাথের সমাজচেতনার আলোচনা কতটা প্রাসঙ্গিক! সেই সূত্রে বলতেই হয় ক্রমবর্ধমান নারীনির্যাতন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর নির্লজ্জ আক্রমন স...

গল্প

জ্যোৎস্নার মুখ কিংবা অল্টোর চোখ গী ত শ্রী  সি ন হা   বসন্তের সোহাগী মুহূর্তে বেহাগ অস্থিরভাবে অপেক্ষারত। কথা দিয়েছে হর্ষাকে আজ দেখা হবে তাদের! পথেঘাটে হামাগুড়ি  খাচ্ছে  বসন্তের ঝরা পাতা, ফুলের পাপড়ি... মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে অশোক, হিমঝুরি, ইউক্যালিপটাস, রক্তকাঞ্চন, দেবদারু, পলাশ, মহুয়া, শাল - শিমুলের দল--- সাথে ক্যামেলিয়ার হাতছানি...  ফোনে কথা হতো কখনওবা। সেই দেখা হয়েছিল ইউনিভার্সিটির শেষ দিনে।  বেহাগ কলেজে পড়ায়, হর্ষা বিখ্যাত খ্যাতিমান বাবার ব্যবসার অংশীদার।  দ্রুত পায়ে পায়চারি করতে থাকে হর্ষার জন্য বেহাগ। ফোনে বেজে ওঠে রবীন্দ্রসংগীতের প্রেমের সুর--- ------- তুমি পথে আছো বলে ফোন করছিলাম না হর্ষা! প্লিজ বলো, আর কতোক্ষণ! ------- এ-ই তো বেহাগ, আমি এসে গেছি গো! একটা ঢিল তুলে ছুঁড়ে মারে অনেক দূরে পুকুরের মাঝ বরাবর ---- দুই হাত প্রসারিত করে চিৎকার করতে থাকে "ভালোবাসি হর্ষা! খুব ভালোবাসি তোমায়"!  সুন্দরী সুসজ্জিত সাজে হর্ষা দূর থেকে কাছে আসতে থাকে, আরও কাছে--- তাকিয়ে থাকে পরস্পর পরস্পরের মুখোমুখি...   অনেক না বলা কথা নীরবে বলতে থাকে! দু'জনের চোখেই বিস্ময়!  প্রকৃতি উজাড় করা জায়গ...