পোস্টগুলি

অণুগল্প

অণুগল্প  সমগ্র বিষয় তাৎপর্য প্রতিবিম্বিত করাই অনুগল্পের উদ্দেশ্য ও শিল্পরূপের প্রেরণা। অণুগল্প হচ্ছে ছোটগল্পের নবজাতক শিশু। তবে, অণু বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে গিয়ে গল্পের রূপ রস সৌন্দর্যকে লুপ্ত করলে চলবে না। পাঠকের পাঠ তৃপ্তিদায়ক হতে হবে। শব্দ ও স্বাদের ব্যবহার শিল্পের রূপ বহনকারী হতে হবে। সুপ্ত কলা -কৌশল সামান্য কিছু শব্দের মাধ্যমে নিপুণ গাঁথুনি সৃষ্টি করবে।  এক কথায় বলি...  স্বল্পতে সমুদ্রতল। ( সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অভিমত ) - গীতশ্রী সিনহা। দুটি সম্পর্ক নিয়ে অণুগল্প  (১) ঝড় গী ত শ্রী  সি ন হা   হৃৎস্পন্দনের ঝংকার তুলে আকাশ তখন উগ্র মূর্তি। বিদ্যুতের ঝলকানি তে টুপুর দৌড়ে এসে আশ্রয় নেয় বাবার বুকে। রূপকবাবু অলীক কল্পনার সুখে টেনে নেন টুপুর-কে। সম্বিত ফেরে নিশ্চিন্তে ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে। টুপুরের জীবনটা ছিল পেন্সিলে আঁকা একটি ছবি - হঠাৎ করে রাবারের স্পর্শে মুছে যায় সব কিছু...  সদ্য সন্তানহারা পিতা ভাবেন, আজ হয়তো-বা টুপুরের বাবা বেঁচে থাকলে এইভাবেই মেয়েকে আশ্রয় দিতেন। স্বর্গীয় শান্তির ঘ্রাণ জড়িয়ে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে... স্বপ্নের ভিতর স্বপ্ন ...  যেন শিশির ঝরা নরম পালক... (২) সিঁড়ি বাঃ দারুণ ! ...

মুক্তগদ্য

এক্সট্রা ক্লাস সো ম না থ  বে নি য়া   একটি অপেক্ষা ফুলুরির মতো হাবুডুবু খায়। এই বিপন্নতা দেখে সূর্য চিৎকার করতে করতে ডুবে যায়। হঠাৎ করে পড়ে যায় সাইকেলের চেন। পড়ি-মরি করে তুলতে গিয়ে হাতে কালি লাগলে মনে পড়ে দীঘল চোখের কাজলসমগ্র। প্লুতস্বরে কেঁপে ওঠে ঠোঁট। দৌড়াতে চায় বলগাহীন প্রেমের সিলেবাস। সিলেবেলে ভেঙে উচ্চারিত হওয়ার মতো কোনো শব্দ থাকে না। এই অপরূপ আনন্দের গায়ে হেলান দিয়ে পড়ে থাকে দূরবর্তী কোনো সাঁকোর হুড়মুড়িয়ে পড়ার অভিপ্রায়। যদি সে না আসে! আসবে বলেই তো হাতের পাঁচ বিশ্বাস। আপন কথোপকথনের মাঝে ঝরে পড়ে পাতা। নত মাথা ঝুঁকে তুলে নিয়ে মুখের ফুরফুরে হাওয়ায় অনবরত কাঁপিয়ে চলে তার শিরা-উপশিরা। মনে পড়ে এই কাহিনী-র জন্মবৃত্তান্ত। দেখা হবে সখী নিধুবনের রহস‍্য মিনারে। কিছু আপাত অভিমান পিঁপড়ের চঞ্চলতায় অদৃশ্য হয়ে যায়। অদৃশ‍্য হয়ে যাওয়া পথের রেখা বাতাসে রাখে কোনো হিমশৈলের ডুবন্ত আদর্শলিপি। বুঝতে গিয়ে ঠোঁটের আধমরা লিপস্টিক রুমালে উঠে আসে। দীর্ঘশ্বাসে এই চরাচরের ধূসর দৃশ‍্যের পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে। সে আসবে তো? কীভাবে? যেভাবে হঠাৎ নদীতে বান আসে। ভাসিয়ে দেয় দু-পাড়ের আকুল অপেক্ষা। ফেলে যাওয়া কাদামাটিতে...

কবিতা

বৃষ্টিছাঁট সু ম ন্ত  চ ক্র ব র্তী  ঠিক শেষ বিকেলের প্রান্ত ছুঁয়ে মেঘ,  উথাল পাথাল মনের উঠোন ঘর,  জমতে জমতে ছাইলো আকাশময়,  কিছু প্রকাশ হওয়ার এতো আড়ম্বর? হঠাৎ ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি ভাসাচ্ছে ঘরদুয়ার,  শুধু কি তাই আর কিছু ভাসছে না?  ব্যস্ত তুমি জানালাটার ছিটকিনি লাগছে না,  মনের অবাধ্যতা মানিয়ে নেয়া আত্ম-প্রবঞ্চনা? কতো কিছুই নাগাল বিহীন সময় ঘোড়া বেয়ে,  ছকে বদ্ধ জীবন দশে-পাঁচের ক্লান্ত সওয়ারিও,  সময়পথের জমা ধুলোর কাঁচে জমাট আস্তরণ,  তোমার আঙুল ছাপ লাগা কি তারও এতো প্রিয়?  এসো ফিরি আরেকটিবার পুরোনো গন্ধ ঘিরে,  বৃষ্টি যখন ধুয়েই দিলো মেঘলা গোধূলিকে,  নাহয় জলছবিতেই দেখি তোমার অনন্য সংরাগ,  ফের নতুন করে চিনতে থাকি মানুষ প্রকৃতিকে! (১) ভালোবাসা তো অপবিত্র নয় অ ত সী  ম ন্ড ল  তুমি চেয়েছিলে খেলতে খেলতে চাঁদের পাহাড় ছুঁতে। আমি চেয়েছিলাম জ্যোৎস্না রাতে ভিজতে বসন্ত উৎসবে। কোনো অতৃপ্ত বাসনা পূর্ণ করতে না। বরং বিশুদ্ধ বাতাসে এক বুক শ্বাস  নিতে নিতে তোমার হতে চেয়েছি, ভালোবাসা তো অপবিত্র নয় কিন্তু .... (২) অর্থহীন অ ত সী  ম ন্ড ল  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে  যতটুকু ধন সম্পদ জমিয়ে ছিলাম তিলে তিলে  আজ তা মূল্যহী...

রম্য রচনা

মা সরস্বতী আর একটি রীতি অ শো ক বো স  অশোক- মা তোমার পূজোটা এবার কবে গো?  মা সরস্বতী- কী দরকার জেনে? অশোক- কিছুনা, অনলি ফর জেনারেল নলেজ। মা সরস্বতী- জেনারেল নলেজ!! কোনও চাকরির পরীক্ষায়, এবারের সরস্বতী পুজো কবে, এরকম প্রশ্ন কখনও এসেছে বলেতো শুনিনি।  অশোক- না আসলে.. মা সরস্বতী- আসলে টা কী...আচ্ছা মিঠুনের বাংলা সিনেমার একটা ডায়ালগ বলতো?  অশোক প্রসঙ্গটা বুঝতে না পারলেও বলল- "মারব এখানে, লাশ পরবে শ্মশানে" মা সরস্বতী- এবার প্রসেনজিৎ ... অশোকের আসলটা মনে ছিলনা তাই মীরদার করা রিমেকটা বলল- আআআআমি চোর নই.. এরপর চিরঞ্জিতের "পাগলা", শাহরুখ খানের "কিকিকিকি কিরণ" সবকটা শোনার পর মা বললেন- এবার তুই আমার অঞ্জলীর মন্ত্রটা বল দেখি!  অশোক এবার হোঁচট খেল, না রাস্তার গলিতে নয়, স্মৃতির গলিতে.... মা সরস্বতী- তাহলে দেখ, এই ডায়ালগগুলো একবার দুবার শুনেই তোর মুখস্ত। কিন্তু প্রত্যেক বছর অঞ্জলী দিয়েও তোর অঞ্জলীর মন্ত্র মুখস্ত নয়, তার মানে তুই আমার পূজোটাকে কিরকম গুরুত্ব দিস বুঝেছিস তো? অশোক- না তা নয়. . মা সরস্বতী- তা নয় আবার কি? আরে বাবা তুই মায়ের চোখে ফাঁকি দিবি....তোরা হয়...

শ্রুতিনাটিকা

বাজার-বিভ্রাট নী লি মা  চ্যা টা র্জী (পর্দা উঠল। টিংটং শব্দে কলিং বেল বাজল। বাড়ির গিন্নি এসে দরজা খুলে দিল। বাড়ির কর্তা  দু'হাতে দুটো ব্যাগ নিয়ে ঘরে ঢুকল হাঁপাতে হাঁপাতে।) কর্তা::: বাব্বাঃ সারাটা রাস্তা কুত্তার মতো জিভ বার করে হ্যা হ্যা করতে করতে এলাম! দুটো ব্যাগ একবার তুলে দ্যাখো তো, তোমার একেবারে ইয়ে বেরিয়ে যাবেখন! গিন্নি::: আ মরণ! কথার ছিরি দ্যাখো একবার! কর্তা ::: তা বলব না? একেবারে যেন ফিস্টির লিস্টি করেছেন উনি! ব্যাগ তুলতে গিয়ে পটল তোলার জোগাড়।( মান্না দের অনুকরণে হাঁপাতে হাঁপাতে গান) ব্যাগ তুলতে গিয়ে আমি পটল তুলে ফেলেছি, হায় রে হায় রে ব্যাগ তুলতে গিয়ে আমি পটল তুলে ফেলেছি!! উফ্, মরলুম আমি! গিন্নি ::: উঁঃ... আবার হালুম হুলুম করে কথা কয়... কর্তা ::: বলব না ! আইতে যাইতে ভগবান ব্যাটা এমন শালখানাই দিয়েছিলেন আমার পশ্চাদ্দেশে যে আমরণ মনে থাকবে।  গিন্নি::: কী, কী বললে? কর্তা ::: আচ্ছা, আচ্ছা, ঠিক আছে। এখন আমরা সেদিনের মতন বাঙাল ঘটির ঝগড়া শুরু করব না। শেষে চিৎকার করে দুজনারই গলা  ব্যথা হবে, তাপ্পর গার্গল করে মরতে হবে! বরং বাজারের ব্যাগদুটো দ্যাখো... গিন্নি ::: হুম, তাই দেখি! এটা কী...

ভ্রমণকাহিনী

ছবি
পথে যেতে যেতে (পর্ব : ২) ড রো থী  দা শ  বি শ্বা স এলো থার্বো টি এস্টেট, পাহাড়ের ঢালে চা বাগান, গুডরিকের, ছন্দবদ্ধভাবে, বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ত্রিকোণ ঝুড়ি পিঠে বেঁধে রঙ বেরঙের পোশাক পরিহিতা দক্ষ মহিলা শ্রমিকেরা চা-এর দুটি পাতা একটি কুঁড়ি তুলছে,কুঞ্চিত ত্বক, নাকে তাদের কাঁচা সোনার নোলোক, হাতে দু'তিনটি করে  সাদা চুড়ি, শাখার বিকল্প যেন। এমন দৃশ্য দেখলেই "ধনরাজ তামাং" চলচ্চিত্রের ঐ দৃশ্যটির কথা মনে পড়ে যায় ... "টিপাই টিপাই, টিপাই টিপাই, টিপাই টিপাই রে ... ও ... দুটি পাতা একটি কুঁড়ি সবুজ বাগানে ..."এখানকার পাহাড়গুলো গোল গোল। উল্টোনো কচ্ছপের পিঠের মতো, কখনো মনে হলো পাহাড়টা ঠিক যেন উটের কুঁজের মতো। হ্যাঁ, এইবার মনে পড়েছে, এমন ভূমিরূপের ছবি তো ভূগোলবইএ পড়েছি, ঠিক যেন উল্টানো ডিমের ঝুড়ির মতো, এরকম ভূমিরূপকে তো ড্রামলিন বলে। হিমবাহের চলনের দ্বারা পাহাড় কর্তিত হয়ে ড্রামলিন তৈরী হয়। বহুযুগ আগে এসব অঞ্চল তাহলে হিমবাহ অধ্যুষিত ছিলো!!! দেখছি আর মুগ্ধ হচ্ছি। এমন দৃশ্য দেখলে গুনগুন করে মন। "পহাড়ো কো চঞ্চল, কিরণ চুমতী হ্যায়  হওয়া হর নদী কা বদন চুমতী হ্যায়  ইহা স...